মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
ইসরায়েলকে বর্ণবাদী রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে মানিবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ইসরায়েলের ভেতর এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের নীতি, আইন, আচরণ বর্ণবাদের শামিল। চার বছরের গবেষণার পর মঙ্গলবার ২৮০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে এ কথা প্রকাশ করে মানবাধিকার সংগঠনটি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিলিস্তিনিদের সাথে নিয়মিত বর্ণবাদী ও মানবাধিকার বিরোধী আচরণ করে আসছে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ। তবে অ্যামনেস্টির দাবিকে লজ্জাজনক বলে অস্বীকার করেছে ইসরায়েল।
মঙ্গলবার প্রকাশিত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের আইন, নীতি ও আচরণে সুস্পষ্ট বর্ণবাদ প্রকাশ পায়। ইসরায়েলে বসবাসরত ইহুদিদের সুবিধার জন্য ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন ও আধিপত্যবাদী আচরণ করে দেশটির সরকার।
এছাড়াও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘৃণা ও বিদ্বেষ প্রচার করে দেশটি। ফিলিস্তিনিদের নিকৃষ্ট জাতিগোষ্ঠী হিসেবে প্রচার-প্রচারণাসহ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সংঘটিত অপরাধগুলোর সবগুলোই বর্ণবাদের আওতাভুক্ত বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
প্রতিবেদনে নজিরবিহীন বর্ণবাদী আচরণ ও অন্যান্য মানবাধিকার বিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া ২৮০ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগেও একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইসরায়েলকে বর্ণবাদী রাষ্ট্র বলে অভিহিত করেছে। এবার সে তালিকায় নাম লেখালো অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও।
আন্তর্জাতিক আইনে বর্ণবৈষম্যকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে গণ্য করা হয়। তবে অ্যামনেস্টির এই প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পাল্টা অভিযোগ করেন, ইসরায়েল-বিদ্বেষী সংগঠনগুলোর থেকে পাওয়া মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন তথ্য অ্যামনেস্টি তাদের প্রতিবেদনে পুনরায় ব্যবহার করেছে। এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রও।
এদিকে অ্যামনেস্টির এই প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ ও হামাস।